ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৬৯ জন চেয়ারম্যান

ads

প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৬৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট জেলায় ৩৬ ও বরিশালে ১৪ জন। একক প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে ভোটযুদ্ধ করতে হয়নি। নির্বাচিতদের সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউপিতে ৬৩ জন সাধারণ সদস্য ও ছয়জন সংরক্ষিত সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালের প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ৯ শতাংশ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। এবার তা বেড়ে ১৯ শতাংশ হয়েছে।


অপরদিকে ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ১১টির মধ্যে তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন। পৌরসভাগুলো হচ্ছে : কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও নোয়াখালীর কবিরহাট। আগামী ১১ এপ্রিল এসব ইউপি ও পৌরসভায় ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে পাঁচ ধাপে ১১ জন মেয়র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিলেন।


ইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ ও ১১টি পৌরসভায় বুধবার (২৪ মার্চ) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এদিন ৩৭১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৭২ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেড়েছে। সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৬৮৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্যপদে ৯৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সব মিলিয়ে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৫২ জনে। ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রার্থী আছেন ১৯ হাজার ২১২ জন। তাদের মধ্য থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের সংখ্যা বাদ যাবে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ছিল।


এদিকে ১১ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৫৮৩ জন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। তাদেরকে আজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে প্রচারযুদ্ধ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের স্থানে ভোটের প্রয়োজন হবে না।


সূত্র আরও জানায়, সবচেয়ে বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাগেরহাট ও বরিশাল জেলায়। বাগেরহাট জেলার ৩৬টি ও বরিশালে ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ভোলায় ৬টি, চট্টগ্রামে ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পটুয়াখালীতে ২টি, গাজীপুরে ২টি এবং বরগুনা ও খুলনায় একটি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএনপিসহ বেশিরভাগ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন পরিষদ ও ৬ষ্ঠ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়নি। এ কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যা বাড়ল। তারা জানান, এর আগে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৩৮টি ইউপি নির্বাচন হয়। ওই সময়ে সরকারি দলের ৬৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর হার ছিল মাত্র ৯ (৮ দশমিক ৯৪) শতাংশ। তখন মনোনয়নপত্র জমা দিতে বিরোধীদের বাধা ও প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এবার এ ধরনের খবর পাওয়া যায়নি। অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রত্যাহার হয়েছে। তবে ৩৭১টি ইউপির মধ্যে ৬৯ জন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাওয়ায় ২০১৬ সালের ওই নির্বাচনের রেকর্ড ভাঙল। এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের হার ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শক্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না-থাকায় সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই বেশিরভাগ জায়গায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা তাদের।


সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের আজ প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারযুদ্ধ। যদিও বিভিন্ন ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনি প্রার্থীরা পোস্টার সাঁটানোসহ প্রচার শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রচারের সময়ে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোয় মাঠে নেমেছেন ম্যাজিস্ট্রেট। আচরণবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন গত ১৮ মার্চ চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ৭৫২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র এক হাজার ৯৯ ও দলীয় প্রার্থী ৬৫৩ জন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ১৪ হাজার ৪৩৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য (মহিলা মেম্বার) পদে চার হাজার ৩০৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই সময়ে ২৭টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে একজন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৯ মার্চ যাচাই-বাছাইয়ে ৭০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এতে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ জনে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সেই সংখ্যা আরও বাড়ল।


১১ পৌরসভায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫৮৩ জন : ১১টি পৌরসভায় সব মিলিয়ে ৫৮৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে মেয়র পদে ৩৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৩১ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১৮ জন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সেখানে ভোটের প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া সোনাগাজী ও কবিরহাট পৌরসভার একজন করে মোট দুজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। কবিরহাট পৌরসভায় একজন সাধারণ কাউন্সিলরও একক প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছেন।


সূত্র : যুগান্তর

ads
ads
ads

Our Facebook Page